শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫, ০২:২৮ অপরাহ্ন
নতুন ছাত্র সংগঠন নিয়ে আসছে
কোটা আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী প্ল্যাটফর্ম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অগ্রভাগে থাকা একদল শিক্ষার্থী। ‘স্টুডেন্ট ফার্স্ট, বাংলাদেশ ফার্স্ট’ স্লোগানকে ধারণ করে গঠিত হবে এই ছাত্র সংগঠন। আত্মপ্রকাশের পূর্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জনমত জরিপ করবে এর উদ্যোক্তরা। সেখান থেকে ছাত্রসংগঠনের নামসহ বিভিন্ন বিষয় নির্ধারণ করে ছাত্র সংগঠনটি আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করবে।
সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দুই সমন্বয়ক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আব্দুল কাদের ও আবু বাকের মজুমদার।
সংবাদ সম্মেলনে নতুন দলের মৌলিক প্রস্তাবনাগুলো উপস্থাপন করেন আবু বাকের মজুমদার। তিনি বলেন, আদর্শিক বাইনারির কালচারাল দ্বন্দ্বের বাহিরে গিয়ে মধ্যমপন্থি ছাত্র রাজনীতিকে প্রতিষ্ঠা করা। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে অন্তর্ভুক্তিমূলক ছাত্ররাজনীতি তৈরি করা, যেখানে পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে অবমূল্যায়ন করা হবে না। মূলধারার রাজনৈতিক পরিসরে নারীদের যে অনুপস্থিতি রয়েছে সেটিকে বিবেচনা করে নারীর রাজনৈতিক মানস বিনির্মাণ করা, রাজনৈতিক চর্চার পরিবেশ তৈরি করা এবং রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে নারীবান্ধব করে তোলার মাধ্যমে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলের জন্য সমান সুযোগের সৃষ্টি করব।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের সংগ্রাম ও স্বাধীনতার ইতিহাসকে স্বীকার করে ৪৭,৫২,৬২,৬৬, ৬৮, ৬৯,৭১,৯০,২৪ এর গণ-আন্দোলনের উপর ভিত্তি করে ছাত্র রাজনীতি চালু করব। নতুন ছাত্ররাজনীতিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থী সংসদ কাঠামো পুনর্বহালে সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করা হবে।
আবু বাকের মজুমদার জানান, নতুন এ রাজনৈতিক দল লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতি করবে না। এ দলের নেতৃত্ব নির্বাচিত হবে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হবে সংগঠনের সদস্যদের চাঁদার ভিত্তিতে।
বিভাজনের রাজনীতির পৃষ্ঠপোষক এবং সুবিধাভোগী হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বৈরাচারের দখল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলনে আবদুল কাদের বলেন, বিভাজনের রাজনীতি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে জাতীয় ঐক্য এবং সংহতি প্রতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দেশের সবচেয়ে মেধাবী ও চিন্তাশীল শিক্ষার্থীদের মনন দখলের রাজনীতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তরুণদের ভাবতে দেওয়া হয়নি দেশকে নিয়ে, সমাজকে নিয়ে এবং তাদের অধিকার ও সামগ্রিক দায়িত্ব নিয়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম দিন থেকেই গেস্টরুমের অবর্ণনীয় নির্যাতনের মধ্যে দিয়ে শিক্ষার্থীর চিন্তা ও মনন দখল করার প্রক্রিয়া শুরু হতো। দিনের পর দিন মাদার পার্টির প্রোগ্রামে তাদেরকে জোরপূর্বক অংশগ্রহণ করানোর মধ্য দিয়ে চিন্তা ও মনন দখলের এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতো। লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতির অন্ধ অনুকরণের কারণে তরুণদের একটা উল্লেখযোগ্য অংশ কীভাবে জনবিরোধী অবস্থান নিয়েছিল তা আমরা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে দেখেছি।
কর্মসূচি ঘোষণা
এদিকে আবু বাকের মজুমদার নতুন ছাত্র সংগঠন গঠনের লক্ষ্যে কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তিনি বলেন,আজ (সোমবার) এবং আগামীকাল (বুধবার) আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারা দেশের শিক্ষার্থীদের মতামত আহ্বান করব। একই সাথে সদস্য পদের জন্য আহ্বান গ্রহণ করব। আজ অনলাইনে এবং আগামীকাল অনলাইন অফলাইন দুই প্লাটফর্মে এ কাজ করা হবে।
আবু বাকের মজুমদার আরও জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার বিভিন্ন স্থানে এবং সারাদেশের সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় একই সাথে স্কুল কলেজ এবং মাদ্রাসায় এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে